প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৩১৪, নিখোঁজ ২৬২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪
মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪ জনে
দাঁড়িয়েছে। এখনো ২৬২ জন
নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।বুধবার দেশটির ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিজাস্টার রিস্ক
ম্যানেজমেন্ট (ইউএনজিআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো
হয়েছে।ইউএনজিআরডির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে
আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৪৩৭
জন। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায়
উদ্ধার করা হয়েছে ৩৬৪
জনকে। সব মিলিয়ে দেশটিতে
২ লাখ ৬২ হাজার
১৫৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছেন।ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিগত ১০ আগস্ট
স্থানীয় সময় সকাল ৭টা
৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর
উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয়
চোকো বিভাগের সান হোসে দেল
পালমারের কাছে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরে।চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায়
আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী
ভূমিকম্প হিসেবে এটিকে উল্লেখ করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের
প্রভাবে পশ্চিমাঞ্চলের ‘কফি অ্যাক্সিস’ নামে
পরিচিত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামোর
ক্ষয়ক্ষতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবহনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে
ব্যাহত হয়েছে। অন্তত ৩০ হাজার ৬৬৪টি
বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আরও ১ লাখ
৩৬ হাজার ৯৪৬টি বাড়ি কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। ধসে পড়েছে ৩০২টি
ভবন।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর
মধ্যে রয়েছে কালি ও পেরেইরা।ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কইউএনজিআরডির হিসাবে, ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৪৭০টি
স্কুল, ৪ হাজার ৯৭১টি
কমিউনিটি সেন্টার এবং ৩৫২টি স্বাস্থ্যসেবা
কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রোগীদের নিরাপদ
স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।এ ছাড়া ৪৪৯টি
সড়ক, ৫৮টি যানবাহন চলাচলের
সেতু, ১৩টি পদচারী সেতু,
১০৫টি পৌর পানি সরবরাহ
ব্যবস্থা এবং পাঁচটি আঞ্চলিক
বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস নিষেধকালি ও পেরেইরাসহ
বিভিন্ন শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন
চিহ্নিত করতে মূল্যায়ন দল
কাজ করছে। ধসে পড়ার আশঙ্কা
রয়েছে এমন শত শত
ভবনে লাল রঙে ‘বসবাস
করা নিষেধ’ লিখে দেওয়া হয়েছে।ফলে হাজারো মানুষ
অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে
তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন।চোকো, কালদাস ও কুইন্দিও বিভাগের
প্রত্যন্ত এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
থাকায় এসব এলাকায় ত্রাণ
ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।বাড়ছে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিমানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নতুন ঝুঁকি
তৈরি হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি, দূষিত
পানির সরবরাহ ও নতুন করে
ভূমিধসের আশঙ্কায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।অর্থনীতিবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবন ও পরিবহন
অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিতে প্রাথমিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে
পৌঁছাতে পারে। তাঁদের মতে, এই দুর্যোগের
পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কলম্বিয়ার
ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল কার্যক্রম হতে পারে।সূত্র:
আনাদোলু এজেন্সি
কপিরাইট © ২০২৬ 360 News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত