প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নন্দীপাড়ায় ৪১ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ, ১৯৬০-এর দলিলের পর ১৯৭১-এ বিক্রির অভিযোগ
শেখ মো: বেলায়েত হোসেন, রিপোর্টার ||
ঢাকার নন্দীপাড়া
মৌজায় ৪১ শতাংশ জমির
মালিকানা ও দখল নিয়ে
দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
একই জমির মালিকানা দাবিতে
সামনে এসেছে ১৯৬০ ও ১৯৭১
সালের দুটি দলিল। এর
সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নামে পুরোনো নামজারি
এবং ২০২৬ সালে রাম
আনন্দ মন্ডলের নামে সম্পন্ন হওয়া
নতুন নামজারি।রাম আনন্দ
মন্ডলের পক্ষের অভিযোগ, আলহাজ্ব গ্রুপের মালিক আব্দুল আলী গং ১৯৭১
সালের একটি দলিলের ভিত্তিতে
হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা
করছেন। তবে এ অভিযোগের
স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।প্রাপ্ত তথ্য
অনুযায়ী, নন্দীপাড়া মৌজার সিএস দাগ ৭৬৯-এর আরএস রেকর্ডীয়
মালিক ছিলেন নীরদ বালা দাস।
১৯৬০ সালের ১৮ জুলাই ৯২৯২
নম্বর দলিলে তিনি ৪১ শতাংশ
জমি রূপচাঁদ মন্ডল ও গোপীচাঁদ মন্ডলের
কাছে বিক্রি করেন বলে দাবি
করা হচ্ছে। ১৯৬৭ সালে রূপচাঁদ
মন্ডল মারা গেলে তাঁর
ছেলে রাম আনন্দ মন্ডল
ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিকানা পান
এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন
বলে তাঁর পক্ষের দাবি।পরে নিজের
নামে নামজারি করতে গিয়ে রাম
আনন্দ জানতে পারেন, একই জমি ইস্টার্ন
হাউজিং লিমিটেডের নামে নামজারি করা
হয়েছে। ২৪/২৫ নম্বর
মিস কেসের মাধ্যমে ওই নামজারি বাতিল
করে তাঁর নামে নামজারি
করা হয়। তাঁর পক্ষের
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ সনের ১২৬৯১ (IX-I) নম্বর নামজারি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ সম্পন্ন হয়।বিরোধের বড়
প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ১৯৭১
সালের ৭৬৮১ নম্বর দলিল নিয়ে। রাম আনন্দের পক্ষের
দাবি, ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
সালের ওই দলিলে লেবুচাঁন
মন্ডল বিক্রেতা হিসেবে রয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ১৯৬০ সালে জমি
রূপচাঁদ ও গোপীচাঁদ মন্ডলের
কাছে বিক্রি হয়ে থাকলে তাঁদের
ভাই লেবুচাঁন মন্ডল কীভাবে ১৯৭১ সালে একই
জমি বিক্রি করলেন।রাম আনন্দের
পক্ষ আরও দাবি করেছে,
স্থানীয় প্রবীণ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের
কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী লেবুচাঁন মন্ডল জমিটি বিক্রি করেননি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হিন্দু মালিকদের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে
ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগও
করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ
যাচাই করতে মূল দলিল,
রেজিস্ট্রি রেকর্ড, সাক্ষী ও তৎকালীন ভূমি
নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।এদিকে রাম
আনন্দের নামে হওয়া নামজারি
বাতিলের জন্য ভূমি অফিস
ও ডেমরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ
উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে
বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কর্মকর্তাদের
ওপর চাপ সৃষ্টি এবং
তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার
অভিযোগও করেছেন তাঁর পক্ষ।জমির মালিকানা
ও নামজারি নিয়ে মিস আপিল ৪৩৮/২০২৪ ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার
(রাজস্ব) কার্যালয়ে করা হয়। রাম
আনন্দের পক্ষের দাবি, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১৭ আগস্ট ২০২৬
আদেশ দেওয়া হয় এবং তাঁকে
মামলায় বাদী করা হয়নি।এরপর ভূমি
আপিল বোর্ডে রিভিশন মামলা ৩-২১১/২০২৬ করা হয়েছে বলে
তাঁর পক্ষ থেকে জানানো
হয়েছে।সব মিলিয়ে
নন্দীপাড়ার এই জমি বিরোধে
এখন মূল প্রশ্ন ১৯৬০
সালের দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তর
হয়ে থাকলে ১৯৭১ সালের দলিলের
ভিত্তি কী এবং লেবুচাঁন
মন্ডলের ওই জমি বিক্রির
আইনগত অধিকার ছিল কি না।
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মূল দলিল ও
সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে।
একই
সঙ্গে জমি আত্মসাত, চাপ
প্রয়োগ, ভয়ভীতি ও দখলের চেষ্টার
অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ 360 News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত