প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
বাবাকে চা-রুটি খাইয়ে ভাইরাল তুবা ফিরল বিদ্যালয়ে, পাশে উপজেলা প্রশাসন
শেখ মো: বেলায়েত হোসেন, রিপোর্টার ||
চুরির অভিযোগে বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল ৯
বছরের তুবার হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবাকে মারধর না করার অনুরোধ, পরে চা-রুটি এনে খাইয়ে দেওয়া—ছোট্ট মেয়েটির সেই ভালোবাসা ছুঁয়ে যায় অনেকের হৃদয়। এবার সেই তুবা ফিরেছে তার প্রিয় বিদ্যালয়ে। তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়তে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সকালে উজিরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সুজা তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। দীর্ঘদিন পর
বিদ্যালয়ে ফিরে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হয় তুবার। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অন্য শিক্ষকেরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।তুবার পড়াশোনার দায়িত্বে পাশে থাকার আশ্বাসতুবাকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তাঁদের মতে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া শিশুটির স্বাভাবিক জীবন ও
শিক্ষাজীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে এটি একটি মানবিক পদক্ষেপ।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা বলেন, তুবার স্বপ্ন অনেক বড়। তার স্বপ্ন পূরণে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না
হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।বাবাকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমেএর
আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে বামরাইল বাজারে চুরির অভিযোগে তুবার বাবা অনিক হাওলাদারকে স্থানীয় কয়েকজন আটক করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় তুবা। বাবাকে মারধর না করার জন্য কান্নাকাটি করে অনুরোধ করে সে। একপর্যায়ে চা ও রুটি এনে বাবাকে খাইয়ে দেয়।বাবার শরীরের ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দেওয়া এবং তাঁর খোঁজ নেওয়ার দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসনঘটনার পর
২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং মানবিক সহায়তা দেন। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনিককে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।একই সঙ্গে তুবার ভবিষ্যৎ ও
পড়াশোনার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় উপজেলা প্রশাসন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এবার তাকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।
তুবার বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসার দৃশ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেও ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা ও
শিক্ষাজীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, তুবার বিদ্যালয়ে ফিরে আসা তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সহযোগিতা।
কপিরাইট © ২০২৬ 360 News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত