360 News

অর্থনীতি তিন ধরনের কাঠামোগত ফাঁদে আটকে আছে: হোসেন জিল্লুর

বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিবার পর্যায়ের আর্থিক সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা এই তিন ধরনের কাঠামোগত ফাঁদে আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, এটি সাময়িক কোনো সংকট নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পিপিআরসি আয়োজিত ‘স্টেট অব দ্য রিয়াল ইকোনমি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির এই সংকটের প্রথম দিকটি হলো পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ। আগে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে অতিদারিদ্র্য ও মাঝারি দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে চাকরির নিরাপত্তা নেই। পর্যাপ্ত কাজের সুযোগের অভাবে ছদ্মবেকারত্ব ও আংশিক কর্মসংস্থান বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। অর্ধেকের বেশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসার খরচ সামলাতে হচ্ছে নিয়মিত।পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, পরিবার পর্যায়ে সঞ্চয়ের তুলনায় ঋণের বোঝা ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে মানুষের ঋণসংকট আরও গভীর হচ্ছে। পরিবারগুলোর এই আর্থিক দুরবস্থা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষুদ্র পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতাঅর্থনীতির দ্বিতীয় সংকট হিসেবে বিনিয়োগের স্থবিরতা ও প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতির কথা উল্লেখ করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর আর্থিক দুরবস্থার পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রবৃদ্ধির গতিও নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মূল্যায়নেও বিনিয়োগের স্থবিরতার বিষয়টি উঠে এসেছে।তৃতীয় সংকট হিসেবে তিনি রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতার কথা বলেন। তাঁর মতে, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে পরিবারগুলোর আর্থিক কষ্ট কমানো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির এই কাঠামোগত ফাঁদ থেকে বের হতে হলে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে দেশ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রয়েছে। শুধু ব্যাংক কমিশন গঠন কিংবা নতুন নীতিপ্রতিবেদন তৈরি করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমাজ, সরকার ও অর্থনীতিকে সমন্বিত করে একটি সামগ্রিক উত্তরণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণঅনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতি এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।তিনি বলেন, গত দুই দশক ধরে চামড়া, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে তৈরি পোশাকের বিকল্প প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রপ্তানিতে পোশাক খাতের অংশ আরও বেড়েছে। একসময় মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ছিল ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ফজলুল হকের মতে, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া এবং রপ্তানি আয়ের উৎস একমুখী হয়ে পড়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরও অন্য খাতগুলো কেন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারছে না, তা নিয়ে গভীর ও সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বএফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক বলেন, বর্তমানে সনদনির্ভর শিক্ষার চেয়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজন বেশি। সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর কতসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলেও প্রশিক্ষণ শেষে কতজন বাস্তবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নেই। তিনি এ ধরনের পরিসংখ্যানকে ‘নম্বর গেম’ বা সংখ্যার খেলা হিসেবে উল্লেখ করেন।ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করে ফজলুল হক বলেন, ধীরগতির ফাইল চলাচল ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তরুণেরা ব্যবসায়িক বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পুরোনো প্রজন্ম সরকারি দপ্তরে ঘুরে কাজ করতে অভ্যস্ত হলেও নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর সহজ ও দ্রুত সেবা প্রত্যাশা করে।তিনি আরও বলেন, স্টার্টআপ সংস্কৃতি প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে বিকশিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকারি দপ্তরে হয়রানি অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হতে পারে।অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুরে ১৯ ইয়াবাসহ বর্তমান ও সাবেক পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

রংপুর মহানগরীতে ১৯টি ইয়াবা বড়িসহ এক বর্তমান ও এক সাবেক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের পায়রা চত্বরের স্কাইভিউ হোটেলের ৭১০ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত কোতোয়ালির বিচারক রফিকুল ইসলাম তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।আদালতের প্রসিকিউটর আবু সাঈদ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল মিঠুন ইসলাম ও সাবেক কনস্টেবল ওমর আলীকে আদালতে হাজির করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।গ্রেপ্তার মিঠুন ইসলাম দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মোহনপুর এলাকার মাজেদুল ইসলামের ছেলে। অপর আসামি ওমর আলী সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কোণাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার সরকারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লার চান্দিনা থানায় করা একটি মাদক মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুরের উপপরিচালক আবু জাফর জানান, অভিযানের সময় হোটেলকক্ষের খাটের নিচে মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ‘ডার্বি’ সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে জিপারযুক্ত পলিব্যাগ থেকে ১৯টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।এ ছাড়া ইয়াবা সেবনের চারটি পাইপ, দুটি গ্যাস লাইটার, তিনটি প্লাস্টিকের কর্ক, দুটি ফয়েল পেপার ও দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক তাহমুদার রহমান রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মামলা করে দুই ব্যক্তিকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

রংপুরে ১৯ ইয়াবাসহ বর্তমান ও সাবেক পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন কিংবা অফিসের কাজ সব মিলিয়ে প্রতিদিন নানা দায়িত্ব পালন করেন নারীরা। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ অনেক সময় কমে যায়। এর ফলে মেরুদণ্ড বা স্পাইনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। শুরুতে সামান্য ঘাড়, পিঠ বা কোমরব্যথা হলেও অবহেলা করলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।মেরুদণ্ড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। এটি শরীরকে সোজা রাখতে, ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চলাচলে সহায়তা করে। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যাওয়া স্নায়ুর সুরক্ষায়ও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধার পাশাপাশি স্নায়ুজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।নারীদের মেরুদণ্ডের সমস্যা কেন বাড়েনারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে শারীরিক গঠন, হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা এবং দৈনন্দিন কাজের ধরনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ করার সময় ভুল দেহভঙ্গি, শিশুকে দীর্ঘক্ষণ কোলে রাখা কিংবা ভারী জিনিস তোলার কারণে কোমরে চাপ পড়ে।অন্যদিকে, অফিসে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ঘাড় ও পিঠের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।মেরুদণ্ডের সমস্যার ১৪টি সম্ভাব্য কারণ১. হরমোনের পরিবর্তন: মেনোপজের পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।২. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এগুলোর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।৩. গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদান: গর্ভাবস্থায় ওজন ও শরীরের ভারকেন্দ্রে পরিবর্তন আসে। সন্তান জন্মের পর শিশুকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল ভঙ্গিতে বসলে কোমর ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৪. দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে থাকা: একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পিঠ ও কোমরের পেশিতে চাপ পড়ে। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।৫. অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ড ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে ব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।৬. ভুল দেহভঙ্গি: মোবাইল দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে রাখা কিংবা ঝুঁকে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৭. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে পেশিতে টান বাড়তে পারে। এতে ব্যথার অনুভূতিও তীব্র হতে পারে।৮. উঁচু হিলের জুতা: দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল পরলে হাঁটার ধরন ও শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।৯. ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা: কোমর বাঁকিয়ে ভারী জিনিস তুললে পেশি ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে পেশিতে টান বা তীব্র ব্যথা হতে পারে।১০. ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম না থাকলে পিঠ ও পেটের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।১১. অস্টিওপোরোসিস: এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের কশেরুকা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।১২. মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা: মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে কোমরব্যথা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।১৩. দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বয়সজনিত পরিবর্তন: আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।১৪. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যা: ধূমপান, অপুষ্টি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হাড় ও ডিস্কের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জন্মগত ত্রুটি কিংবা স্কোলিওসিসের মতো সমস্যায় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে পিঠব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনমেরুদণ্ডের ব্যথাকে সব সময় সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে কিছু বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।·        পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা ক্রমে বাড়তে থাকা।·        কুঁচকি বা দুই পায়ের মাঝের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।·        নতুন করে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেওয়া।এ ধরনের লক্ষণ মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে গুরুতর চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা বা কুঁচকির আশপাশ অবশ হওয়ার সঙ্গে কোমরব্যথা থাকলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে সঠিক দেহভঙ্গিতে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে না থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য: এ প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ নিয়োগ

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন কিংবা অফিসের কাজ সব মিলিয়ে প্রতিদিন নানা দায়িত্ব পালন করেন নারীরা। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ অনেক সময় কমে যায়। এর ফলে মেরুদণ্ড বা স্পাইনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। শুরুতে সামান্য ঘাড়, পিঠ বা কোমরব্যথা হলেও অবহেলা করলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।মেরুদণ্ড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। এটি শরীরকে সোজা রাখতে, ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চলাচলে সহায়তা করে। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যাওয়া স্নায়ুর সুরক্ষায়ও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধার পাশাপাশি স্নায়ুজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।নারীদের মেরুদণ্ডের সমস্যা কেন বাড়েনারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে শারীরিক গঠন, হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা এবং দৈনন্দিন কাজের ধরনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ করার সময় ভুল দেহভঙ্গি, শিশুকে দীর্ঘক্ষণ কোলে রাখা কিংবা ভারী জিনিস তোলার কারণে কোমরে চাপ পড়ে।অন্যদিকে, অফিসে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ঘাড় ও পিঠের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।মেরুদণ্ডের সমস্যার ১৪টি সম্ভাব্য কারণ১. হরমোনের পরিবর্তন: মেনোপজের পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।২. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এগুলোর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।৩. গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদান: গর্ভাবস্থায় ওজন ও শরীরের ভারকেন্দ্রে পরিবর্তন আসে। সন্তান জন্মের পর শিশুকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল ভঙ্গিতে বসলে কোমর ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৪. দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে থাকা: একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পিঠ ও কোমরের পেশিতে চাপ পড়ে। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।৫. অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ড ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে ব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।৬. ভুল দেহভঙ্গি: মোবাইল দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে রাখা কিংবা ঝুঁকে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৭. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে পেশিতে টান বাড়তে পারে। এতে ব্যথার অনুভূতিও তীব্র হতে পারে।৮. উঁচু হিলের জুতা: দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল পরলে হাঁটার ধরন ও শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।৯. ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা: কোমর বাঁকিয়ে ভারী জিনিস তুললে পেশি ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে পেশিতে টান বা তীব্র ব্যথা হতে পারে।১০. ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম না থাকলে পিঠ ও পেটের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।১১. অস্টিওপোরোসিস: এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের কশেরুকা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।১২. মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা: মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে কোমরব্যথা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।১৩. দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বয়সজনিত পরিবর্তন: আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।১৪. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যা: ধূমপান, অপুষ্টি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হাড় ও ডিস্কের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জন্মগত ত্রুটি কিংবা স্কোলিওসিসের মতো সমস্যায় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে পিঠব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনমেরুদণ্ডের ব্যথাকে সব সময় সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে কিছু বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।·        পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা ক্রমে বাড়তে থাকা।·        কুঁচকি বা দুই পায়ের মাঝের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।·        নতুন করে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেওয়া।এ ধরনের লক্ষণ মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে গুরুতর চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা বা কুঁচকির আশপাশ অবশ হওয়ার সঙ্গে কোমরব্যথা থাকলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে সঠিক দেহভঙ্গিতে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে না থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য: এ প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ডিজিটাল বিভাজন যেন এআই বিভাজনে পরিণত না হয়: ফকির মাহবুব আনাম

 বর্তমানের ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভাজনে পরিণত না হয়, সেটিই বাংলাদেশের অন্যতম অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।সরকারি খাতে এআই ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, এআই যেন নতুন কোনো বৈষম্য তৈরি না করে। বরং বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘এআই গভর্ন্যান্স ইন প্র্যাকটিস: প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।৬ ও ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব, ইউএনডিপি এবং তুরস্ক প্রজাতন্ত্র।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এআই এখন আর শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে এটি ইতিমধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। তাই প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত এআই গ্রহণ করা হবে, তা নয়; বরং কতটা দায়িত্বশীল, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে এর ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।এআই সুশাসনের জন্য তিনটি মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। প্রথমত, সরকারি কাজে এআই ব্যবহারে আস্থা ও বিশ্বাস নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক।দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, কার্যকর ডেটা গভর্ন্যান্স এবং সময়োপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। কোনো একটি দেশের কাছে এআই ব্যবহারের সব সমাধান নেই উল্লেখ করে তিনি অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য তৈরি না করে; বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।ফকির মাহবুব আনাম আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি উদ্ভাবন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশ পিছিয়ে থাকবে না। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।দুই দিনের এ সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

অর্থনীতি তিন ধরনের কাঠামোগত ফাঁদে আটকে আছে: হোসেন জিল্লুর

বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিবার পর্যায়ের আর্থিক সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা এই তিন ধরনের কাঠামোগত ফাঁদে আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, এটি সাময়িক কোনো সংকট নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পিপিআরসি আয়োজিত ‘স্টেট অব দ্য রিয়াল ইকোনমি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির এই সংকটের প্রথম দিকটি হলো পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ। আগে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে অতিদারিদ্র্য ও মাঝারি দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে চাকরির নিরাপত্তা নেই। পর্যাপ্ত কাজের সুযোগের অভাবে ছদ্মবেকারত্ব ও আংশিক কর্মসংস্থান বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। অর্ধেকের বেশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসার খরচ সামলাতে হচ্ছে নিয়মিত।পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, পরিবার পর্যায়ে সঞ্চয়ের তুলনায় ঋণের বোঝা ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে মানুষের ঋণসংকট আরও গভীর হচ্ছে। পরিবারগুলোর এই আর্থিক দুরবস্থা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষুদ্র পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতাঅর্থনীতির দ্বিতীয় সংকট হিসেবে বিনিয়োগের স্থবিরতা ও প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতির কথা উল্লেখ করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর আর্থিক দুরবস্থার পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রবৃদ্ধির গতিও নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মূল্যায়নেও বিনিয়োগের স্থবিরতার বিষয়টি উঠে এসেছে।তৃতীয় সংকট হিসেবে তিনি রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতার কথা বলেন। তাঁর মতে, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে পরিবারগুলোর আর্থিক কষ্ট কমানো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির এই কাঠামোগত ফাঁদ থেকে বের হতে হলে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে দেশ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রয়েছে। শুধু ব্যাংক কমিশন গঠন কিংবা নতুন নীতিপ্রতিবেদন তৈরি করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমাজ, সরকার ও অর্থনীতিকে সমন্বিত করে একটি সামগ্রিক উত্তরণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণঅনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতি এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।তিনি বলেন, গত দুই দশক ধরে চামড়া, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে তৈরি পোশাকের বিকল্প প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রপ্তানিতে পোশাক খাতের অংশ আরও বেড়েছে। একসময় মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ছিল ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ফজলুল হকের মতে, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া এবং রপ্তানি আয়ের উৎস একমুখী হয়ে পড়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরও অন্য খাতগুলো কেন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারছে না, তা নিয়ে গভীর ও সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বএফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক বলেন, বর্তমানে সনদনির্ভর শিক্ষার চেয়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজন বেশি। সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর কতসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলেও প্রশিক্ষণ শেষে কতজন বাস্তবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নেই। তিনি এ ধরনের পরিসংখ্যানকে ‘নম্বর গেম’ বা সংখ্যার খেলা হিসেবে উল্লেখ করেন।ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করে ফজলুল হক বলেন, ধীরগতির ফাইল চলাচল ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তরুণেরা ব্যবসায়িক বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পুরোনো প্রজন্ম সরকারি দপ্তরে ঘুরে কাজ করতে অভ্যস্ত হলেও নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর সহজ ও দ্রুত সেবা প্রত্যাশা করে।তিনি আরও বলেন, স্টার্টআপ সংস্কৃতি প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে বিকশিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকারি দপ্তরে হয়রানি অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হতে পারে।অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন

আলেমদের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে: মুহিউদ্দিন রব্বানী

কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেছেন, আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির নানা চেষ্টা হলেও তাঁদের ঐক্য অটুট রয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য ধরে রাখা হবে।রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’।মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, ইসলামি শিক্ষা ও কওমি মাদরাসা শত বছর ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি দেশ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তাঁর দাবি, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে তুলে আলেমদের সম্মানহানি এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগ আলেম সমাজকে বিভক্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে আলেমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও জানান।মাদরাসায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বানমাদরাসা শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নজরদারি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।হেবা আইন বাতিলের দাবিবক্তব্যে সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত হেবা আইন বাতিলের দাবি জানান মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন আলেম সমাজ মেনে নেবে না। এ ধরনের আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।মাদরাসা শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আহ্বানদেশের ৬৫০টির বেশি মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের এ সভায় মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক অবদান, প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আলেম-ওলামা, মাদরাসার পরিচালক এবং সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় বক্তারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর স্বকীয়তা, পাঠ্যক্রমের স্বাতন্ত্র্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।মাদরাসা শিক্ষাকে ঘিরে বিভ্রান্তি, বৈষম্য কিংবা অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, শাইখুল হাদিস মুফতি সালাউদ্দিন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি শামসুদ্দিন কাসেমী, মোহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম), মুফতি নজিরুল ইসলাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম নূরানী, মুফতি মাহমুদুল হক হাফেজ্জী, মুফতি ওমর ফারুক সিরাজী, মুফতি মোজাম্মেল হক, মাওলানা রঈস উদ্দিন, মুফতি আহসান হাবিব, মাওলানা মোবাশ্বের হোসেন, মাওলানা আবির মোহাম্মদ রওশন ও মাওলানা মোস্তফা কায়ছারসহ অনেকে।

পুরোনো ভবন ও স্থানসংকট, সচিবালয়ের নতুন ঠিকানা আগারগাঁও

পুরোনো ভবন ও স্থানসংকট, সচিবালয়ের নতুন ঠিকানা আগারগাঁও

বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন)।মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আগে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। সেটির ভিত্তিতে নীতিগত ও প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। এখন এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বর্তমান সচিবালয়ের স্থানসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ও পর্যাপ্ত স্থানের অভাবে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমান সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। ভবনগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছা রয়েছে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মেরুল বাড্ডায় আবাসিক ভবনে দোকান নির্মাণ, নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ

মেরুল বাড্ডায় আবাসিক ভবনে দোকান নির্মাণ, নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের দক্ষিণ বারিধারায় ‘হেলেনা নিবাস’ নামের একটি ভবনে অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজ ও রাজউকের অনুমোদন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি নম্বর ১৮, রোড নম্বর ১৭, ঢাকা-১২১২ ঠিকানার ভবনটিতে দোকান নির্মাণ চলছে। আবাসিক ব্যবহারের শর্ত এবং অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।অভিযোগকারীরা ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণসংক্রান্ত নথি এবং দোকান নির্মাণের অনুমতি যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনের আইনজীবী ও রাজউকের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। তবে তাঁর পরিচয় ও নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাজউক, মেরুল বাড্ডা থানা কর্তৃপক্ষ, ভবনমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে নথি যাচাই ও সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন। অনুমোদিত নকশা বা ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

আলেমদের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে: মুহিউদ্দিন রব্বানী

আলেমদের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে: মুহিউদ্দিন রব্বানী

কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেছেন, আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির নানা চেষ্টা হলেও তাঁদের ঐক্য অটুট রয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য ধরে রাখা হবে।রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’।মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, ইসলামি শিক্ষা ও কওমি মাদরাসা শত বছর ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি দেশ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তাঁর দাবি, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে তুলে আলেমদের সম্মানহানি এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগ আলেম সমাজকে বিভক্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে আলেমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও জানান।মাদরাসায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বানমাদরাসা শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নজরদারি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।হেবা আইন বাতিলের দাবিবক্তব্যে সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত হেবা আইন বাতিলের দাবি জানান মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন আলেম সমাজ মেনে নেবে না। এ ধরনের আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।মাদরাসা শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আহ্বানদেশের ৬৫০টির বেশি মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের এ সভায় মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক অবদান, প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আলেম-ওলামা, মাদরাসার পরিচালক এবং সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় বক্তারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর স্বকীয়তা, পাঠ্যক্রমের স্বাতন্ত্র্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।মাদরাসা শিক্ষাকে ঘিরে বিভ্রান্তি, বৈষম্য কিংবা অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, শাইখুল হাদিস মুফতি সালাউদ্দিন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি শামসুদ্দিন কাসেমী, মোহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম), মুফতি নজিরুল ইসলাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম নূরানী, মুফতি মাহমুদুল হক হাফেজ্জী, মুফতি ওমর ফারুক সিরাজী, মুফতি মোজাম্মেল হক, মাওলানা রঈস উদ্দিন, মুফতি আহসান হাবিব, মাওলানা মোবাশ্বের হোসেন, মাওলানা আবির মোহাম্মদ রওশন ও মাওলানা মোস্তফা কায়ছারসহ অনেকে।

তরুণদের প্রশ্ন ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে: রিজভী

তরুণদের প্রশ্ন ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে: রিজভী

দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে তরুণদের প্রশ্ন, মতামত ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাঁদের মধ্যে কৌতূহল, নতুন কিছু জানার আগ্রহ ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটলে জ্ঞানভিত্তিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের পাশাপাশি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মুজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আয়োজিত ‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।রিজভী বলেন, তরুণদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে নতুন নতুন ধারণা ও চিন্তার জন্ম হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা এসব ধারণা কাজে লাগিয়ে দেশের সংকট চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধানের পথও বের করা সম্ভব।এ জন্য তরুণদের শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে দেশ, সমাজ এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ববিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও স্বাধীনভাবে কথা বলা, মতপ্রকাশ এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল।তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একনায়কতন্ত্র কিংবা সামরিক শাসন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছুটা স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার বজায় থাকে। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে সেই সুযোগও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের চাপ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের তরুণেরা কাজ করে গেছেন। এখন স্বাধীন পরিবেশে তাঁদের মেধা, মনন ও মুক্তচিন্তার চর্চা আরও বাড়াতে হবে।তরুণদের সৃজনশীলতাই দেশের ভবিষ্যতের শক্তিজিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠনটি সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। অতীতে ভার্চ্যুয়াল বিজ্ঞান মেলার আয়োজন এবং কোভিড-১৯ মহামারি ও ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘আইডিয়া ফেস্ট’-এর মতো আয়োজন তরুণদের মধ্যে কৌতূহল ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাবে এবং নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে।অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, সাহসী প্রশ্ন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতার ওপর।তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তব সমস্যার সমাধানকেও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফাউন্ডেশন।কৃষি, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের সমস্যা নিয়ে সাত দলের ধারণা‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’-এর চূড়ান্ত পর্বে সাতটি দল নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। কৃষি, স্বাস্থ্য, বাণিজ্যসহ জাতীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা।তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তবমুখী ধারণা সামনে আনার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।আইডিয়া ফেস্ট আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক সোহাগ আওয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

চাঁদাবাজি-মাদক বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সাইফুল আলমের

চাঁদাবাজি-মাদক বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান সাইফুল আলমের

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার বন্ধে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সোমবার রাতে রাজধানীর শিল্পাঞ্চল থানার উত্তর বেগুনবাড়ি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাইফুল আলম খান মিলন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. উল্লাহ ভূঁইয়া হারুনের ব্যবস্থাপনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. রিয়াজ উদ্দিন।সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘কী হচ্ছে দেশে? এখানে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়েছে।’ তিনি কুমিল্লায় একটি শিশুকে হত্যা এবং খুলনায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, মানুষ হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী—সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিষ্ক্রিয় থাকলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে ‘শুধু তাঁর জীবনটা দেওয়া বাকি’। তিনি দাবি করেন, সরকারি দলের লোকজন চাঁদাবাজি করছে এবং কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা রয়েছে। নির্বাচনের আগেও তিনি চাঁদাবাজি বন্ধের কথা বলেছেন এবং এখনো তা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন বলে জানান।তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় সরকারি দলের এমপি থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ছাড়া তাঁর পক্ষে একা চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়।চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, পাড়া-মহল্লায় মানুষকে একত্রিত হয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। চাঁদা না দেওয়া এবং মাদক বিক্রি করতে না দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এভাবে মহল্লায় মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হলে তাঁরা জনগণের পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি।তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সরকার যদি বাহিনী দিয়ে দেশের অনাচার-অত্যাচার বন্ধ করতে না পারে, তাহলে জনগণের মাঠে নামা ছাড়া উপায় থাকবে না। এসব বন্ধ করার জন্য এখনো সময় আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য ও শিল্পাঞ্চল থানা আমির মো. কলিম উল্লাহ এবং থানা সেক্রেটারি নূর উদ্দিন মো. জাহিদ। এ ছাড়া স্থানীয় বিশিষ্টজন, আলেম-ওলামা, যুবক, শিক্ষক ও মহল্লা কমিটির নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করার বাধা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করার বাধা প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

বেসরকারি স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রণীত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পারওয়ার।মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান। ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন গোলাম পারওয়ার।তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার এই বিধান সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। বিধানটি বাতিল না হলে নির্বাচন কমিশন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।গোলাম পারওয়ার বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক চাকরিতে রয়েছেন।এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে পদায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই কর্মকর্তাকে অপসারণের বিষয়ে সরকারকে অবহিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

পুরোনো ভবন ও স্থানসংকট, সচিবালয়ের নতুন ঠিকানা আগারগাঁও

পুরোনো ভবন ও স্থানসংকট, সচিবালয়ের নতুন ঠিকানা আগারগাঁও

বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন)।মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আগে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। সেটির ভিত্তিতে নীতিগত ও প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। এখন এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বর্তমান সচিবালয়ের স্থানসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ও পর্যাপ্ত স্থানের অভাবে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমান সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। ভবনগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছা রয়েছে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুরোনো ভবন ও স্থানসংকট, সচিবালয়ের নতুন ঠিকানা আগারগাঁও

পুরোনো ভবন ও স্থানসংকট, সচিবালয়ের নতুন ঠিকানা আগারগাঁও

বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন)।মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আগে একটি মাস্টারপ্ল্যান ছিল। সেটির ভিত্তিতে নীতিগত ও প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। এখন এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বর্তমান সচিবালয়ের স্থানসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ও পর্যাপ্ত স্থানের অভাবে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমান সচিবালয়ের বেশির ভাগ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। ভবনগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছা রয়েছে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন কিংবা অফিসের কাজ সব মিলিয়ে প্রতিদিন নানা দায়িত্ব পালন করেন নারীরা। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ অনেক সময় কমে যায়। এর ফলে মেরুদণ্ড বা স্পাইনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। শুরুতে সামান্য ঘাড়, পিঠ বা কোমরব্যথা হলেও অবহেলা করলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।মেরুদণ্ড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। এটি শরীরকে সোজা রাখতে, ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চলাচলে সহায়তা করে। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যাওয়া স্নায়ুর সুরক্ষায়ও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধার পাশাপাশি স্নায়ুজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।নারীদের মেরুদণ্ডের সমস্যা কেন বাড়েনারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে শারীরিক গঠন, হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা এবং দৈনন্দিন কাজের ধরনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ করার সময় ভুল দেহভঙ্গি, শিশুকে দীর্ঘক্ষণ কোলে রাখা কিংবা ভারী জিনিস তোলার কারণে কোমরে চাপ পড়ে।অন্যদিকে, অফিসে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ঘাড় ও পিঠের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।মেরুদণ্ডের সমস্যার ১৪টি সম্ভাব্য কারণ১. হরমোনের পরিবর্তন: মেনোপজের পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।২. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এগুলোর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।৩. গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদান: গর্ভাবস্থায় ওজন ও শরীরের ভারকেন্দ্রে পরিবর্তন আসে। সন্তান জন্মের পর শিশুকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল ভঙ্গিতে বসলে কোমর ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৪. দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে থাকা: একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পিঠ ও কোমরের পেশিতে চাপ পড়ে। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।৫. অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ড ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে ব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।৬. ভুল দেহভঙ্গি: মোবাইল দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে রাখা কিংবা ঝুঁকে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৭. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে পেশিতে টান বাড়তে পারে। এতে ব্যথার অনুভূতিও তীব্র হতে পারে।৮. উঁচু হিলের জুতা: দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল পরলে হাঁটার ধরন ও শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।৯. ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা: কোমর বাঁকিয়ে ভারী জিনিস তুললে পেশি ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে পেশিতে টান বা তীব্র ব্যথা হতে পারে।১০. ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম না থাকলে পিঠ ও পেটের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।১১. অস্টিওপোরোসিস: এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের কশেরুকা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।১২. মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা: মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে কোমরব্যথা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।১৩. দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বয়সজনিত পরিবর্তন: আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।১৪. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যা: ধূমপান, অপুষ্টি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হাড় ও ডিস্কের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জন্মগত ত্রুটি কিংবা স্কোলিওসিসের মতো সমস্যায় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে পিঠব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনমেরুদণ্ডের ব্যথাকে সব সময় সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে কিছু বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।·        পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা ক্রমে বাড়তে থাকা।·        কুঁচকি বা দুই পায়ের মাঝের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।·        নতুন করে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেওয়া।এ ধরনের লক্ষণ মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে গুরুতর চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা বা কুঁচকির আশপাশ অবশ হওয়ার সঙ্গে কোমরব্যথা থাকলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে সঠিক দেহভঙ্গিতে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে না থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য: এ প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।