বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিবার পর্যায়ের আর্থিক সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা এই তিন ধরনের কাঠামোগত ফাঁদে আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, এটি সাময়িক কোনো সংকট নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পিপিআরসি আয়োজিত ‘স্টেট অব দ্য রিয়াল ইকোনমি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির এই সংকটের প্রথম দিকটি হলো পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ। আগে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে অতিদারিদ্র্য ও মাঝারি দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে চাকরির নিরাপত্তা নেই। পর্যাপ্ত কাজের সুযোগের অভাবে ছদ্মবেকারত্ব ও আংশিক কর্মসংস্থান বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। অর্ধেকের বেশি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসার খরচ সামলাতে হচ্ছে নিয়মিত।পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, পরিবার পর্যায়ে সঞ্চয়ের তুলনায় ঋণের বোঝা ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে মানুষের ঋণসংকট আরও গভীর হচ্ছে। পরিবারগুলোর এই আর্থিক দুরবস্থা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষুদ্র পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতাঅর্থনীতির দ্বিতীয় সংকট হিসেবে বিনিয়োগের স্থবিরতা ও প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতির কথা উল্লেখ করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর আর্থিক দুরবস্থার পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রবৃদ্ধির গতিও নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মূল্যায়নেও বিনিয়োগের স্থবিরতার বিষয়টি উঠে এসেছে।তৃতীয় সংকট হিসেবে তিনি রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতার কথা বলেন। তাঁর মতে, অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে পরিবারগুলোর আর্থিক কষ্ট কমানো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির এই কাঠামোগত ফাঁদ থেকে বের হতে হলে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে যে দেশ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রয়েছে। শুধু ব্যাংক কমিশন গঠন কিংবা নতুন নীতিপ্রতিবেদন তৈরি করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমাজ, সরকার ও অর্থনীতিকে সমন্বিত করে একটি সামগ্রিক উত্তরণ পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণঅনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতি এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।তিনি বলেন, গত দুই দশক ধরে চামড়া, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে তৈরি পোশাকের বিকল্প প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রপ্তানিতে পোশাক খাতের অংশ আরও বেড়েছে। একসময় মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ছিল ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ফজলুল হকের মতে, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া এবং রপ্তানি আয়ের উৎস একমুখী হয়ে পড়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরও অন্য খাতগুলো কেন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারছে না, তা নিয়ে গভীর ও সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বএফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক বলেন, বর্তমানে সনদনির্ভর শিক্ষার চেয়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজন বেশি। সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর কতসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলেও প্রশিক্ষণ শেষে কতজন বাস্তবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নেই। তিনি এ ধরনের পরিসংখ্যানকে ‘নম্বর গেম’ বা সংখ্যার খেলা হিসেবে উল্লেখ করেন।ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করে ফজলুল হক বলেন, ধীরগতির ফাইল চলাচল ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তরুণেরা ব্যবসায়িক বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পুরোনো প্রজন্ম সরকারি দপ্তরে ঘুরে কাজ করতে অভ্যস্ত হলেও নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর সহজ ও দ্রুত সেবা প্রত্যাশা করে।তিনি আরও বলেন, স্টার্টআপ সংস্কৃতি প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে বিকশিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সরকারি দপ্তরে হয়রানি অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হতে পারে।অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর মহানগরীতে ১৯টি ইয়াবা বড়িসহ এক বর্তমান ও এক সাবেক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের পায়রা চত্বরের স্কাইভিউ হোটেলের ৭১০ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত কোতোয়ালির বিচারক রফিকুল ইসলাম তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।আদালতের প্রসিকিউটর আবু সাঈদ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল মিঠুন ইসলাম ও সাবেক কনস্টেবল ওমর আলীকে আদালতে হাজির করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।গ্রেপ্তার মিঠুন ইসলাম দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মোহনপুর এলাকার মাজেদুল ইসলামের ছেলে। অপর আসামি ওমর আলী সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কোণাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার সরকারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লার চান্দিনা থানায় করা একটি মাদক মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুরের উপপরিচালক আবু জাফর জানান, অভিযানের সময় হোটেলকক্ষের খাটের নিচে মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ‘ডার্বি’ সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে জিপারযুক্ত পলিব্যাগ থেকে ১৯টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।এ ছাড়া ইয়াবা সেবনের চারটি পাইপ, দুটি গ্যাস লাইটার, তিনটি প্লাস্টিকের কর্ক, দুটি ফয়েল পেপার ও দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক তাহমুদার রহমান রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিলন কুমার চ্যাটার্জি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মামলা করে দুই ব্যক্তিকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জব্দ করা আলামতসহ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন কিংবা অফিসের কাজ সব মিলিয়ে প্রতিদিন নানা দায়িত্ব পালন করেন নারীরা। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ অনেক সময় কমে যায়। এর ফলে মেরুদণ্ড বা স্পাইনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। শুরুতে সামান্য ঘাড়, পিঠ বা কোমরব্যথা হলেও অবহেলা করলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।মেরুদণ্ড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। এটি শরীরকে সোজা রাখতে, ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চলাচলে সহায়তা করে। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যাওয়া স্নায়ুর সুরক্ষায়ও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধার পাশাপাশি স্নায়ুজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।নারীদের মেরুদণ্ডের সমস্যা কেন বাড়েনারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে শারীরিক গঠন, হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা এবং দৈনন্দিন কাজের ধরনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ করার সময় ভুল দেহভঙ্গি, শিশুকে দীর্ঘক্ষণ কোলে রাখা কিংবা ভারী জিনিস তোলার কারণে কোমরে চাপ পড়ে।অন্যদিকে, অফিসে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ঘাড় ও পিঠের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।মেরুদণ্ডের সমস্যার ১৪টি সম্ভাব্য কারণ১. হরমোনের পরিবর্তন: মেনোপজের পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।২. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এগুলোর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।৩. গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদান: গর্ভাবস্থায় ওজন ও শরীরের ভারকেন্দ্রে পরিবর্তন আসে। সন্তান জন্মের পর শিশুকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল ভঙ্গিতে বসলে কোমর ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৪. দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে থাকা: একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পিঠ ও কোমরের পেশিতে চাপ পড়ে। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।৫. অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ড ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে ব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।৬. ভুল দেহভঙ্গি: মোবাইল দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে রাখা কিংবা ঝুঁকে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৭. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে পেশিতে টান বাড়তে পারে। এতে ব্যথার অনুভূতিও তীব্র হতে পারে।৮. উঁচু হিলের জুতা: দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল পরলে হাঁটার ধরন ও শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।৯. ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা: কোমর বাঁকিয়ে ভারী জিনিস তুললে পেশি ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে পেশিতে টান বা তীব্র ব্যথা হতে পারে।১০. ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম না থাকলে পিঠ ও পেটের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।১১. অস্টিওপোরোসিস: এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের কশেরুকা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।১২. মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা: মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে কোমরব্যথা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।১৩. দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বয়সজনিত পরিবর্তন: আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।১৪. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যা: ধূমপান, অপুষ্টি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হাড় ও ডিস্কের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জন্মগত ত্রুটি কিংবা স্কোলিওসিসের মতো সমস্যায় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে পিঠব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনমেরুদণ্ডের ব্যথাকে সব সময় সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে কিছু বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।· পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা ক্রমে বাড়তে থাকা।· কুঁচকি বা দুই পায়ের মাঝের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।· নতুন করে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেওয়া।এ ধরনের লক্ষণ মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে গুরুতর চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা বা কুঁচকির আশপাশ অবশ হওয়ার সঙ্গে কোমরব্যথা থাকলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে সঠিক দেহভঙ্গিতে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে না থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য: এ প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ নিয়োগ