বেসরকারি স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রণীত বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পারওয়ার।মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান। ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন গোলাম পারওয়ার।তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার এই বিধান সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। বিধানটি বাতিল না হলে নির্বাচন কমিশন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।গোলাম পারওয়ার বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক চাকরিতে রয়েছেন।এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে পদায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই কর্মকর্তাকে অপসারণের বিষয়ে সরকারকে অবহিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে আলোচনার শুরুতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের দুই সদস্য। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে তাঁরা বেরিয়ে যান।ওয়াকআউট করা দুই সদস্য হলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন। এর আগে একই দিন সকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ না নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকও বর্জন করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য যথাক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।‘ওয়াকআউট সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না’রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দেন বিরোধী দলের দুই সদস্য। আলোচনা শুরুর আগে তাঁরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির সদস্য মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন ওয়াকআউট করেন।কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে বলেন, কমিটির সদস্যদের কোনো সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন, পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিরোধিতা করার সুযোগ রয়েছে। এটিই কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব। তবে সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনাসংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ছয় মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। একই সময়ে মব তৈরির চেষ্টা চললেও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলেও সভায় জানানো হয়।বৈঠকে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ বাগেরহাটের মোংলার জেলে ও মোটরসাইকেলচালক মিরাজ শেখের অপহরণের দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও আলোচনা হয়। এ ধরনের দোষারোপের রাজনীতি বা ‘ব্লেম গেম’ পরিহার করা উচিত বলে মত দেন কমিটির সদস্যরা।সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্তবৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল ও আবদুল বাতেন অংশ নেন। কয়েক মিনিট বৈঠক চলার পর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তাঁরা জানান, জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে তাঁরা ওয়াকআউট করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সংসদীয় কমিটির বৈঠকও বর্জন করবেন। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং শিরীন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকার, বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি বলেন, শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন নয়, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকার, ব্যক্তিখাত ও এনজিওগুলোর যৌথ অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার কাজ চলছে।রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বাংলাদেশে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ডেলিভারিতে আমরা যে পাইলট প্রজেক্টটি করেছি, তাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি বা ভুল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ত্রুটির হার অত্যন্ত নগণ্য এবং এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।’তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।ত্রাণ বিতরণে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগঅর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সঠিক পদ্ধতি ও দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে ক্ষতি ও অপচয় হয়। এর অন্যতম কারণ দুর্নীতি, অপচয় ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব।সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে জরুরি সহায়তা দেওয়ার কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে এনজিও ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে।সরকারের সম্পদ পুনর্বণ্টনের সঙ্গে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সম্পদ ও সক্ষমতাকে যুক্ত করে সামগ্রিক পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।বেসরকারি খাত ও এনজিও যুক্ত হলে দক্ষতা বাড়েআমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষে এককভাবে সব ধরনের সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়।তাঁর মতে, সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজের দক্ষতা বাড়ে এবং একই সঙ্গে অপচয় ও দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়।তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে, আজকের এই বন্যা পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। পত্র-পত্রিকায় বা কোথাও আমি এমন কোনো অভিযোগ দেখিনি।’ফ্যামিলি কার্ডকে কার্যকর ডেলিভারি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উল্লেখঅর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি দক্ষ ডেলিভারি সিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি সরকারের সহায়তা কার্যক্রমের তদারকি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।তিনি জানান, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর এই সম্মিলিত অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত রাখতে চায় সরকার।সাধারণ মানুষের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে সহায়তা সম্পন্ন হয় না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ নিয়োগ