সরকারি চান্দিনা
ভিটা ভাড়া দেওয়া কিংবা
সেখানে ইমারত নির্মাণের নিয়ম না থাকলেও
কয়েকটি ভিটায় দোতলা ভবন নির্মাণ করে
ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তজুমদ্দিন উপজেলা
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা
সদরে মোট ৪১টি চান্দিনা
ভিটা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এসব
ঘর ও ভিটা একসনা
বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর আর
নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া
হয়নি। আগে যারা বরাদ্দ
পেয়েছিলেন, তাঁদের নামেই প্রতিবছর নবায়ন করে বরাদ্দ চালু
রাখা হয়েছে।
বরাদ্দ পাওয়া
ব্যক্তিদের কেউ কেউ ভাড়া
দেওয়া বা ভবন নির্মাণের
বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা
প্রকাশ করেছেন।
২০১৪ সালের
বরাদ্দের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়,
এসব ভিটার মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মৃত অহিদ
উল্যাহ জসিম, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও তজুমদ্দিন ডিগ্রি
কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন সুমন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছির
উদ্দিন দুলাল, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সভাপতি
আমিনুল ইসলাম, সদ্য প্রয়াত উপজেলা
আওয়ামী লীগ সভাপতি ফখরুল
আলম জাহাঙ্গীর এবং উপজেলা মৎস্যজীবী
লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলামের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া
সদ্য প্রয়াত উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক
ফজলুল হক দেওয়ানের ছেলে
ফাহমিদ দেওয়ান, মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ও আওয়ামী লীগের
সদস্য পিযুষ কুমার কর্মকার, আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইউসুফ, মহিলা
ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা লীগ
সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগম সাজু এবং
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী আবুল হাসনাত লিটনের
নামও বরাদ্দের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায়
ক্ষোভ জানিয়েছেন তজুমদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি ভিটাগুলো প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হোক।
তজুমদ্দিন বাজার
ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী শনিবার অভিযোগ করেন, এসব চান্দিনা ভিটা
আগে ব্যবসায়ীদের নামে বরাদ্দ ছিল।
২০০৭ সালে তাঁদের উচ্ছেদ
করা হয়। পরে ২০১৪
সালে নতুন করে ঘর
বরাদ্দের জন্য আবেদন আহ্বান
করা হলে উচ্ছেদ হওয়া
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আবেদন করেন।
তবে তাঁদের
অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে অসাধু
কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা এবং
আওয়ামীপন্থী সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের
নামে এসব ভিটা বরাদ্দ
দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ
থেকে চলতি বছরের ২
এপ্রিল তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বরাদ্দ বাতিল
করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঘরগুলো পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে
আবেদনের পর তদন্তে দৃশ্যমান
অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ
জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, চান্দিনা ভিটার বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন সার্ভেয়ারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
সরকারি চান্দিনা
ভিটা ভাড়া দেওয়া কিংবা
সেখানে ইমারত নির্মাণের নিয়ম না থাকলেও
কয়েকটি ভিটায় দোতলা ভবন নির্মাণ করে
ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তজুমদ্দিন উপজেলা
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা
সদরে মোট ৪১টি চান্দিনা
ভিটা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এসব
ঘর ও ভিটা একসনা
বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর আর
নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া
হয়নি। আগে যারা বরাদ্দ
পেয়েছিলেন, তাঁদের নামেই প্রতিবছর নবায়ন করে বরাদ্দ চালু
রাখা হয়েছে।
বরাদ্দ পাওয়া
ব্যক্তিদের কেউ কেউ ভাড়া
দেওয়া বা ভবন নির্মাণের
বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা
প্রকাশ করেছেন।
২০১৪ সালের
বরাদ্দের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়,
এসব ভিটার মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মৃত অহিদ
উল্যাহ জসিম, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও তজুমদ্দিন ডিগ্রি
কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন সুমন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছির
উদ্দিন দুলাল, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সভাপতি
আমিনুল ইসলাম, সদ্য প্রয়াত উপজেলা
আওয়ামী লীগ সভাপতি ফখরুল
আলম জাহাঙ্গীর এবং উপজেলা মৎস্যজীবী
লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলামের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া
সদ্য প্রয়াত উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক
ফজলুল হক দেওয়ানের ছেলে
ফাহমিদ দেওয়ান, মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ও আওয়ামী লীগের
সদস্য পিযুষ কুমার কর্মকার, আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইউসুফ, মহিলা
ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা লীগ
সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগম সাজু এবং
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী আবুল হাসনাত লিটনের
নামও বরাদ্দের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায়
ক্ষোভ জানিয়েছেন তজুমদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি ভিটাগুলো প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হোক।
তজুমদ্দিন বাজার
ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী শনিবার অভিযোগ করেন, এসব চান্দিনা ভিটা
আগে ব্যবসায়ীদের নামে বরাদ্দ ছিল।
২০০৭ সালে তাঁদের উচ্ছেদ
করা হয়। পরে ২০১৪
সালে নতুন করে ঘর
বরাদ্দের জন্য আবেদন আহ্বান
করা হলে উচ্ছেদ হওয়া
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আবেদন করেন।
তবে তাঁদের
অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে অসাধু
কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা এবং
আওয়ামীপন্থী সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের
নামে এসব ভিটা বরাদ্দ
দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ
থেকে চলতি বছরের ২
এপ্রিল তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বরাদ্দ বাতিল
করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঘরগুলো পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে
আবেদনের পর তদন্তে দৃশ্যমান
অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ
জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, চান্দিনা ভিটার বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন সার্ভেয়ারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন