লিখিত অভিযোগে
হুমায়ুন কবির হোসেন বলেন,
ভূমিসংক্রান্ত একটি তদন্তের জন্য
তাঁকে নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডাকা
হয়। সেখানে একই স্মারকের বিপরীতে
দুটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। এর একটি
তাঁর পক্ষে এবং অন্যটি বিপক্ষে
ছিল। পক্ষে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে
৫০ হাজার টাকা দাবি করা
হয় বলে অভিযোগ করেন
তিনি।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, বিভিন্ন চাপ ও পরিস্থিতির কারণে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিপক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের জন্য নায়েব সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
কাঙ্গালিয়া গ্রামের
মজনু মিয়াও নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়ে
অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, নামজারির
আবেদন পাঁচবার বাতিল হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে
৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে আবেদনটি প্রস্তাবিত করা হয়। পরে
তাঁকে আরও ১০ হাজার
টাকা দিতে হয়েছে বলেও
অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় পৌনে চার গণ্ডা জমি খারিজ করতে ২৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর কাছে আরও ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের আনাগোনা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ সহজ হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ায় দ্বিতীয় প্রতিবেদন করা হয়। তবে সংশোধিত প্রতিবেদনটি কেন পাঠানো হয়নি এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ভুলবশত হয়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার কাজল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন এবং জনগণ ভালো সেবা পাবেন এটাই তাঁর প্রত্যাশা। এর ব্যত্যয় হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেলাব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ বলেন, অভিযোগের একটি অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও একই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। এখন ঘুষ দাবি, হয়রানি ও দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার অভিযোগগুলোর তদন্তে কী উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিখিত অভিযোগে
হুমায়ুন কবির হোসেন বলেন,
ভূমিসংক্রান্ত একটি তদন্তের জন্য
তাঁকে নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডাকা
হয়। সেখানে একই স্মারকের বিপরীতে
দুটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। এর একটি
তাঁর পক্ষে এবং অন্যটি বিপক্ষে
ছিল। পক্ষে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে
৫০ হাজার টাকা দাবি করা
হয় বলে অভিযোগ করেন
তিনি।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, বিভিন্ন চাপ ও পরিস্থিতির কারণে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিপক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের জন্য নায়েব সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
কাঙ্গালিয়া গ্রামের
মজনু মিয়াও নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়ে
অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, নামজারির
আবেদন পাঁচবার বাতিল হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে
৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে আবেদনটি প্রস্তাবিত করা হয়। পরে
তাঁকে আরও ১০ হাজার
টাকা দিতে হয়েছে বলেও
অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় পৌনে চার গণ্ডা জমি খারিজ করতে ২৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর কাছে আরও ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের আনাগোনা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ সহজ হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ায় দ্বিতীয় প্রতিবেদন করা হয়। তবে সংশোধিত প্রতিবেদনটি কেন পাঠানো হয়নি এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ভুলবশত হয়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার কাজল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন এবং জনগণ ভালো সেবা পাবেন এটাই তাঁর প্রত্যাশা। এর ব্যত্যয় হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেলাব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ বলেন, অভিযোগের একটি অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও একই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। এখন ঘুষ দাবি, হয়রানি ও দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার অভিযোগগুলোর তদন্তে কী উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন