360 News
Post Ads 1
Post Ads 2

সারাদেশ

নারায়ণপুর ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ, দালাল ছাড়া মেলে না সেবা

নারায়ণপুর ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ, দালাল ছাড়া মেলে না সেবা
Post Ads 3
ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ দাবি, হয়রানি দালালের মাধ্যমে নামজারি করানোর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বারৈচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির হোসেন।

লিখিত অভিযোগে হুমায়ুন কবির হোসেন বলেন, ভূমিসংক্রান্ত একটি তদন্তের জন্য তাঁকে নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডাকা হয়। সেখানে একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। এর একটি তাঁর পক্ষে এবং অন্যটি বিপক্ষে ছিল। পক্ষে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Middle Post Content 1

হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, বিভিন্ন চাপ পরিস্থিতির কারণে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিপক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের জন্য নায়েব সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

Middle Post Content 2

নামজারিতে দালালের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

কাঙ্গালিয়া গ্রামের মজনু মিয়াও নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, নামজারির আবেদন পাঁচবার বাতিল হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে আবেদনটি প্রস্তাবিত করা হয়। পরে তাঁকে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Middle Post Content 3

আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় পৌনে চার গণ্ডা জমি খারিজ করতে ২৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর কাছে আরও হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের আনাগোনা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ সহজ হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

Middle Post Content 1

অভিযোগ অস্বীকার নায়েবের

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ায় দ্বিতীয় প্রতিবেদন করা হয়। তবে সংশোধিত প্রতিবেদনটি কেন পাঠানো হয়নি  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ভুলবশত হয়েছে।

Middle Post Content 1

নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বললেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার কাজল বলেন, বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন এবং জনগণ ভালো সেবা পাবেন এটাই তাঁর প্রত্যাশা। এর ব্যত্যয় হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেলাব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ বলেন, অভিযোগের একটি অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। বাদী বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।

Middle Post Content 1

একই অফিসে আগে তহশিলদার ছিলেন

সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও একই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। এখন ঘুষ দাবি, হয়রানি দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার অভিযোগগুলোর তদন্তে কী উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

বিষয় : নামজারি নারায়ণপুর ভূমি অফিস বেলাব ভূমি সেবা ঘুষের অভিযোগ

Post Ads 5

আপনার মতামত লিখুন

Post Ads 6
Post Ads 10
360 News

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নারায়ণপুর ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ, দালাল ছাড়া মেলে না সেবা

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ দাবি, হয়রানি দালালের মাধ্যমে নামজারি করানোর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বারৈচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির হোসেন।

লিখিত অভিযোগে হুমায়ুন কবির হোসেন বলেন, ভূমিসংক্রান্ত একটি তদন্তের জন্য তাঁকে নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডাকা হয়। সেখানে একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। এর একটি তাঁর পক্ষে এবং অন্যটি বিপক্ষে ছিল। পক্ষে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, বিভিন্ন চাপ পরিস্থিতির কারণে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিপক্ষে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের জন্য নায়েব সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

নামজারিতে দালালের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

কাঙ্গালিয়া গ্রামের মজনু মিয়াও নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, নামজারির আবেদন পাঁচবার বাতিল হওয়ার পর দালালের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে আবেদনটি প্রস্তাবিত করা হয়। পরে তাঁকে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রায় পৌনে চার গণ্ডা জমি খারিজ করতে ২৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর কাছে আরও হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের আনাগোনা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ সহজ হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

অভিযোগ অস্বীকার নায়েবের

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই স্মারকের বিপরীতে দুটি প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ায় দ্বিতীয় প্রতিবেদন করা হয়। তবে সংশোধিত প্রতিবেদনটি কেন পাঠানো হয়নি  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ভুলবশত হয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বললেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার কাজল বলেন, বিষয়ে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন এবং জনগণ ভালো সেবা পাবেন এটাই তাঁর প্রত্যাশা। এর ব্যত্যয় হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেলাব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজ সারতাজ জায়েদ বলেন, অভিযোগের একটি অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। বাদী বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।

একই অফিসে আগে তহশিলদার ছিলেন

সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও একই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। এখন ঘুষ দাবি, হয়রানি দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার অভিযোগগুলোর তদন্তে কী উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।


360 News


কপিরাইট © ২০২৬ 360 News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নারায়ণপুর ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ, দালাল ছাড়া মেলে না সেবা
0:00 0:00
1.0x