360 News

কোরআনের বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি এখন জাদুঘর

নরসিংদীর পাঁচদোনা গ্রামের মেহেরপাড়ায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি। ড্রিম হলিডে পার্কের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এ বাড়িটি বর্তমানে ‘ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন মিউজিয়াম’ হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০১৬ সালে ভারতীয় কমিশনারের অনুদানে মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে বাড়িটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। সংস্কারের সময় চুন-সুরকির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা মূল্যবান কাঠ ও টালি ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ির অন্দরমহল সাজানো হয়েছে ব্রিটিশ আমলের আসবাব দিয়ে।বাড়ির সামনে রয়েছে গিরিশ চন্দ্র সেনের আবক্ষ মূর্তি। সেখানে তাঁর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে।জাদুঘরে গিরিশ চন্দ্রের স্মৃতিবাড়িটিতে গড়ে ওঠা জাদুঘরে গিরিশ চন্দ্র সেনের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, তাঁর লেখা বই এবং বাস্তুভিটা থেকে পাওয়া প্রত্ননিদর্শন সংরক্ষণ করা হয়েছে।প্রতি সপ্তাহের রোববার ছাড়া অন্য ছয় দিন জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।ছিলেন সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ১৮৩৪ সালে পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গিরিশ চন্দ্র সেন। সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদ হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে তিনি গবেষণা ও অনুবাদ করেন।ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হয়েও তিনি পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেন। এ কাজের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ইতিহাসে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক হিসেবে তিনি ‘ভাই’ উপাধি লাভ করেন। পরে আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং কোরআন-হাদিস অনুবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে ‘মৌলভি’ উপাধিও দেওয়া হয়।১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট গিরিশ চন্দ্র সেন মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে সংরক্ষিত সামগ্রী ও বই এখন তাঁর জীবন ও কর্মের সাক্ষ্য বহন করছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমীদের কাছে নরসিংদীর এ বাড়ি ও জাদুঘর একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।লেখক: মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ

কোরআনের বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি এখন জাদুঘর