মেয়েদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক ক্যাম্পাস গড়ার আহ্বান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির
মেয়েদের জন্য
আরও নিরাপদ ও সহায়ক ক্যাম্পাস
গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি)
প্রফেসর ড. এ এস
এম আমানুল্লাহ।তিনি বলেছেন,
সমাজে মেয়েদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত
নিরাপদ পরিসর তৈরি করা সম্ভব
হয়নি। বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও বিভিন্ন সামাজিক
প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মেয়ে উচ্চশিক্ষায়
আসার আগেই ঝরে পড়ে।
এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্ব
নিতে হবে।সোমবার হবিগঞ্জ
সরকারি মহিলা কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর হবিগঞ্জ
জেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন।ড. আমানুল্লাহ
বলেন, সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি
বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে
সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
অব্যাহত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের
আনন্দময়, মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশে
শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই এ
কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার
মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাংস্কৃতিক
কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের
মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে
গড়ে তুলতে হবে।তিনি মেয়েদের
STEM—বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—শিক্ষায়
আরও বেশি সম্পৃক্ত করার
ওপর গুরুত্ব দেন। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র
ও শিল্পের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে
তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন
আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে শিল্প
ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও জোরদার করা
হবে। এ পরিবর্তনের ধারায়
মেয়েদেরও সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিসি বলেন, অধিভুক্ত কলেজগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি
করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা
আনন্দের সঙ্গে শিখবে, নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতের
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হবে।
সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার
মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমের বিকাশে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।হবিগঞ্জ সরকারি
মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহান আরা খাতুন, জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের
পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইলিয়াছ বখত
চৌধুরীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।