360 News

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা, সঞ্চালনার দায়িত্বে নিখিল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নিখিল। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর এই ভূমিকা স্বাভাবিক মনে হলেও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।নিখিল কুমার নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হাছান মাহমুদের নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে হাছান মাহমুদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সরকারি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তির সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা একজন ব্যক্তি কীভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।তবে নিখিল কুমার নাথের বক্তব্য, পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবেই তিনি অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, কখনো কারও ক্ষতি করেননি।বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার দেশ-কে নিখিল কুমার নাথ বলেন, ‘বিএনপির লোকেরা আমাকে ভালোবাসেন। আমাদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। তিনি তো সবার। সে হিসেবে আমাদেরও। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবিটি আওয়ামী লীগ এলে কেউ যদি দেখিয়ে বলে আমি বিএনপি করতাম, তাহলে কী শোভা পায়?’আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি পদে দায়িত্বপেশায় আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালের ২২ জুন প্রকাশিত স্থানীয় একটি সংবাদ অনুযায়ী, তাঁকে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় তিনি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।ছাত্রজীবনেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, আইন কলেজ ছাত্রলীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়।পরবর্তী সময়ে নিখিল কুমার নাথ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। মঙ্গলবার জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই সাংগঠনিক পরিচয়েই দায়িত্ব পালন করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপ্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নিখিল কুমার নাথের উপস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মাসুদ উল হক চৌধুরী। তাঁর পোস্টের মূল প্রশ্ন ছিল, প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে?পোস্টে মাসুদ উল হক চৌধুরী দাবি করেন, নিখিল কুমার নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো মেয়াদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে তাঁকে তৎকালীন সরকারের সুবিধাভোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, দলীয় পরিচয়ের এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর এত কাছাকাছি থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নজরে আনারও আহ্বান জানান তিনি।হাছান মাহমুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগনিখিল কুমার নাথের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়া আসনে দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই এলাকার রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় নিখিল নাথকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো।সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাছান মাহমুদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে নিখিল কুমার নাথ উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ পেয়েছিলেন।এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, তখন একটি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা, সঞ্চালনার দায়িত্বে নিখিল