360 News

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ২৫ কেজি চাল নিয়ে ক্ষোভ জেলেদের

মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে সাগর ও নদীতে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ থাকবে।নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে নদী ও সাগর থেকে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। কোথাও নৌকা-ট্রলার ঘাটে ফিরিয়ে রাখা হচ্ছে, কোথাও জাল শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জীবিকা নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি সরকারি সহায়তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক জেলে।নদীতে ফিরছে নৌকা, গুটিয়ে রাখা হচ্ছে জালচাঁদপুরে মেঘনার পাড়ে নিষেধাজ্ঞার আগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন জেলেরা। নদীতে যাওয়ার পরিবর্তে তীরে উঠছে মাছ ধরার নৌকা। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, আবার কেউ জাল শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন।চাঁদপুরের মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।চাঁদপুর নৌ থানার ওসি আজমগীর হোসাইন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।নিষেধাজ্ঞা মানলেও জীবিকা নিয়ে শঙ্কাভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমউদ্দিন, হাসাননগর, মির্জাকালু ও সাচড়া এলাকার মাছঘাটগুলোতে জেলেরা নদী থেকে জাল গুটিয়ে তীরে ফিরছেন। ঘাটে সারি বেঁধে রাখা হচ্ছে শত শত ট্রলার ও নৌকা।তবে নিষেধাজ্ঞা মেনে নদী ছাড়লেও জেলেদের মধ্যে জীবিকা নিয়ে চরম শঙ্কা রয়েছে।বোরহানউদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছেন। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি জাল ও ট্রলার বাজেয়াপ্ত করা হবে।কম ইলিশ নিয়ে ফিরছেন জেলেরাপিরোজপুরের জিয়ানগরের পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গভীর সাগর থেকে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। তবে এবার এখনো ইলিশের পেটে পর্যাপ্ত ডিম না আসায় হতাশ তাঁরা।নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে তুলনামূলক কম ইলিশ পাওয়ায় অনেক জেলেকেই প্রত্যাশার চেয়ে কম মাছ নিয়ে ট্রলার ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে। এরপরও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে ২২ দিন ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে জেল-জরিমানাপটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারে মাইকিং, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন।কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে নদী ও সাগরে নজরদারি করবে।নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।২৫ কেজি চাল নিয়ে ক্ষোভ জেলেদেরপিরোজপুরের কাউখালীতে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দের চাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।গতকাল বুধবার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা ৩১০টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ২৫ কেজি করে চাল। সব মিলিয়ে বিতরণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭৫ টন চাল।কাউখালী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৬৫০টি উপকারভোগী মৎস্যজীবী পরিবারের মধ্যে ৪১ দশমিক ২৫ টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে।জেলেদের আক্ষেপ, ২৫ কেজি চাল দিয়ে পুরো মাসের সংসার চালানো কঠিন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়েই তাঁদের দুশ্চিন্তা।উজিরপুরেও জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণবরিশালের উজিরপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে বিশেষ খাদ্যসহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে।গতকাল বুধবার সকালে উজিরপুর পৌরসভা প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান, পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খানসহ অন্যরা।

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ২৫ কেজি চাল নিয়ে ক্ষোভ জেলেদের