360 News

বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওর অংশীদারত্ব: অর্থমন্ত্রী

বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকার, বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি বলেন, শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন নয়, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকার, ব্যক্তিখাত ও এনজিওগুলোর যৌথ অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার কাজ চলছে।রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বাংলাদেশে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ডেলিভারিতে আমরা যে পাইলট প্রজেক্টটি করেছি, তাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি বা ভুল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ত্রুটির হার অত্যন্ত নগণ্য এবং এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।’তিনি দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।ত্রাণ বিতরণে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগঅর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সঠিক পদ্ধতি ও দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে ক্ষতি ও অপচয় হয়। এর অন্যতম কারণ দুর্নীতি, অপচয় ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব।সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে জরুরি সহায়তা দেওয়ার কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে এনজিও ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে।সরকারের সম্পদ পুনর্বণ্টনের সঙ্গে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সম্পদ ও সক্ষমতাকে যুক্ত করে সামগ্রিক পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।বেসরকারি খাত ও এনজিও যুক্ত হলে দক্ষতা বাড়েআমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষে এককভাবে সব ধরনের সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়।তাঁর মতে, সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজের দক্ষতা বাড়ে এবং একই সঙ্গে অপচয় ও দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়।তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে, আজকের এই বন্যা পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। পত্র-পত্রিকায় বা কোথাও আমি এমন কোনো অভিযোগ দেখিনি।’ফ্যামিলি কার্ডকে কার্যকর ডেলিভারি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উল্লেখঅর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি দক্ষ ডেলিভারি সিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি সরকারের সহায়তা কার্যক্রমের তদারকি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।তিনি জানান, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর এই সম্মিলিত অংশীদারত্বকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত রাখতে চায় সরকার।সাধারণ মানুষের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে সহায়তা সম্পন্ন হয় না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওর অংশীদারত্ব: অর্থমন্ত্রী