360 News

অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনেই সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এতে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর বাজেটে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, বাস্তবে তা পূরণ হয় না। একই সময়ে প্রত্যাশিত হারে বিদেশি ঋণও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্যয় নির্বাহে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের অবস্থান ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১১২ কোটি টাকা।বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের মোট ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরে সরকারি ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়। এ কারণে ব্যয় মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে।গত অর্থবছরেও সরকার ব্যাংক ঋণ নেওয়ার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে অর্থবছর শেষে সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নেয়, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি।এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা