360 News

আলেমদের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে: মুহিউদ্দিন রব্বানী

কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেছেন, আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির নানা চেষ্টা হলেও তাঁদের ঐক্য অটুট রয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য ধরে রাখা হবে।রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল ‘ষড়যন্ত্রের কবলে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব ও কর্তব্য’।মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, ইসলামি শিক্ষা ও কওমি মাদরাসা শত বছর ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি দেশ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।তাঁর দাবি, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে তুলে আলেমদের সম্মানহানি এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এসব উদ্যোগ আলেম সমাজকে বিভক্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে আলেমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও জানান।মাদরাসায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বানমাদরাসা শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নজরদারি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও বলেন তিনি।হেবা আইন বাতিলের দাবিবক্তব্যে সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত হেবা আইন বাতিলের দাবি জানান মুহিউদ্দিন রব্বানী। তিনি বলেন, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন আলেম সমাজ মেনে নেবে না। এ ধরনের আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।মাদরাসা শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আহ্বানদেশের ৬৫০টির বেশি মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশনের এ সভায় মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক অবদান, প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আলেম-ওলামা, মাদরাসার পরিচালক এবং সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় বক্তারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বাংলাদেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর স্বকীয়তা, পাঠ্যক্রমের স্বাতন্ত্র্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।মাদরাসা শিক্ষাকে ঘিরে বিভ্রান্তি, বৈষম্য কিংবা অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, শাইখুল হাদিস মুফতি সালাউদ্দিন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি শামসুদ্দিন কাসেমী, মোহাম্মদ রাজ (নওমুসলিম), মুফতি নজিরুল ইসলাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম নূরানী, মুফতি মাহমুদুল হক হাফেজ্জী, মুফতি ওমর ফারুক সিরাজী, মুফতি মোজাম্মেল হক, মাওলানা রঈস উদ্দিন, মুফতি আহসান হাবিব, মাওলানা মোবাশ্বের হোসেন, মাওলানা আবির মোহাম্মদ রওশন ও মাওলানা মোস্তফা কায়ছারসহ অনেকে।

আলেমদের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে: মুহিউদ্দিন রব্বানী