360 News

গুম মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ: বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী

রাজধানীর সিম্পোজিয়ামে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন সাবেক হাইকোর্ট বিচারপতিগুমকে মৃত্যুর চেয়ে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।শনিবার রাজধানীতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: এক পর্যালোচনা শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এ মন্তব্য করেন।বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশের সুযোগ পান এবং দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন না তিনি কোথায় আছেন বা তাঁর কী পরিণতি হয়েছে।তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাতে হয়। আশা ও হতাশার মাঝামাঝি এক ধরনের স্থগিত অবস্থায় তাঁদের জীবন আটকে থাকে। এ সময় তাঁরা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক সংকট এবং সমাজ থেকে একঘরে হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।গুম ব্যাপক আকার ধারণ করেছিলসাবেক এই বিচারপতি বলেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে গুম ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। সে সময় চরম নৃশংসতা বিদ্যমান ছিল এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অন্যতম কেন্দ্রে ছিল গুম।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায়ই গুমের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করত। এর মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এমনভাবে ‘মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন ও দানবায়িত’ করা হয়েছিল, যাতে এসব কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা সহজ হয়।গুমের ঘটনা শুধু নিখোঁজ ব্যক্তির ওপর নয়, তাঁর পরিবার ও স্বজনদের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই বিচারপতি।

গুম মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ: বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী