360 News

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন কিংবা অফিসের কাজ সব মিলিয়ে প্রতিদিন নানা দায়িত্ব পালন করেন নারীরা। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ অনেক সময় কমে যায়। এর ফলে মেরুদণ্ড বা স্পাইনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। শুরুতে সামান্য ঘাড়, পিঠ বা কোমরব্যথা হলেও অবহেলা করলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।মেরুদণ্ড শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। এটি শরীরকে সোজা রাখতে, ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চলাচলে সহায়তা করে। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যাওয়া স্নায়ুর সুরক্ষায়ও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধার পাশাপাশি স্নায়ুজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।নারীদের মেরুদণ্ডের সমস্যা কেন বাড়েনারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার পেছনে শারীরিক গঠন, হরমোনের পরিবর্তন, গর্ভাবস্থা এবং দৈনন্দিন কাজের ধরনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজ করার সময় ভুল দেহভঙ্গি, শিশুকে দীর্ঘক্ষণ কোলে রাখা কিংবা ভারী জিনিস তোলার কারণে কোমরে চাপ পড়ে।অন্যদিকে, অফিসে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে ঘাড় ও পিঠের পেশিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।মেরুদণ্ডের সমস্যার ১৪টি সম্ভাব্য কারণ১. হরমোনের পরিবর্তন: মেনোপজের পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।২. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। এগুলোর ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।৩. গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদান: গর্ভাবস্থায় ওজন ও শরীরের ভারকেন্দ্রে পরিবর্তন আসে। সন্তান জন্মের পর শিশুকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল ভঙ্গিতে বসলে কোমর ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৪. দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে থাকা: একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পিঠ ও কোমরের পেশিতে চাপ পড়ে। এতে ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।৫. অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেশি হলে মেরুদণ্ড ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে ব্যথার সমস্যা বাড়তে পারে।৬. ভুল দেহভঙ্গি: মোবাইল দেখার সময় দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে রাখা কিংবা ঝুঁকে বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।৭. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে পেশিতে টান বাড়তে পারে। এতে ব্যথার অনুভূতিও তীব্র হতে পারে।৮. উঁচু হিলের জুতা: দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল পরলে হাঁটার ধরন ও শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কোমর ও পিঠে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।৯. ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলা: কোমর বাঁকিয়ে ভারী জিনিস তুললে পেশি ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে পেশিতে টান বা তীব্র ব্যথা হতে পারে।১০. ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম না থাকলে পিঠ ও পেটের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।১১. অস্টিওপোরোসিস: এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের কশেরুকা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।১২. মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা: মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে থাকা ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে স্নায়ুতে চাপ দিলে কোমরব্যথা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।১৩. দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বয়সজনিত পরিবর্তন: আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন রোগ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।১৪. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যা: ধূমপান, অপুষ্টি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হাড় ও ডিস্কের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জন্মগত ত্রুটি কিংবা স্কোলিওসিসের মতো সমস্যায় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে পিঠব্যথা ও চলাচলে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনমেরুদণ্ডের ব্যথাকে সব সময় সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে কিছু বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।·        পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা ক্রমে বাড়তে থাকা।·        কুঁচকি বা দুই পায়ের মাঝের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া।·        নতুন করে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেওয়া।এ ধরনের লক্ষণ মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে গুরুতর চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের নতুন সমস্যা বা কুঁচকির আশপাশ অবশ হওয়ার সঙ্গে কোমরব্যথা থাকলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে সঠিক দেহভঙ্গিতে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে না থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য: এ প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

নারীদের মেরুদণ্ডের ব্যথার ১৪ কারণ, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন