360 News

হাইতিতে অপহৃত ৪ সেনাকে উদ্ধারে সামরিক অভিযান এল সালভাদরের

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হাতে অপহৃত চার সেনাকে উদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। সেনাদের জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় মুক্তি দেওয়া না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে।বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বুকেলে এ তথ্য জানান। তবে উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।এল সালভাদরে সশস্ত্র গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে পরিচিতি পাওয়া বুকেলে অপহরণকারীদের সতর্ক করে বলেন, তাঁর হুঁশিয়ারিকে ফাঁকা বুলি মনে করা উচিত হবে না। তিনি লেখেন, ‘আমাদের হুমকিকে ফাঁকা বুলি মনে করবেন না। আমরা এল সালভাদরের গ্যাংগুলোকে শেষ করেছি। আপনাদেরও শেষ করতে পারি।’তিন দিন আগে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গুলি চালায় সশস্ত্র গ্যাংয়ের সদস্যরা। ওই গাড়িতে থাকা এল সালভাদরের চার সেনা এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। গত বছর সহিংসতাকবলিত হাইতিতে আন্তর্জাতিক গ্যাং দমন বাহিনীর কার্যক্রম শুরুর পর এটিকে বড় ধরনের প্রথম হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।নিখোঁজ চার সেনা জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীর (জিএসএফ) বিমান চলাচলবিষয়ক কারিগরি কর্মী। পোর্ট-অ-প্রিন্সের ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকার সান্তোতে তাঁদের সাঁজোয়া যানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর তাঁরা গাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকে তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।সেনাদের মুক্তি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারহাইতির সরকার বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অপহৃত সেনাদের মুক্ত করা তাদের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’। তবে নিখোঁজ সালভাদরীয় সেনারা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত কোনো তথ্য পেয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্ধার ও নিরাপত্তা অভিযান পর্যালোচনা এবং কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। গ্যাং দমন বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জিএসএফের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি। জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীটি এখনো রোববারের হামলার ঘটনাস্থলের আশপাশে সশস্ত্র গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।হাইতিতে বাস্তুচ্যুত ১৫ লাখ মানুষসালভাদরীয় সেনাদের ওপর হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গ্যাং স্বীকার করেনি। এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। একই সঙ্গে ঘটনাটি রাজধানীর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী গ্যাংগুলোর শক্তির বিষয়টিও সামনে এনেছে। ধারণা করা হয়, পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে।হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে গঠিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে এল সালভাদর ছাড়াও চাদ, জ্যামাইকা ও গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশ অংশ নিচ্ছে। দেশটিতে এ বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছেন।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাং সহিংসতার কারণে হাইতিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশটিতে পাঁচ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সময়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৩০ জনের বেশি মানুষ।যে এলাকায় সালভাদরীয় সেনাদের সাঁজোয়া যানটি হামলার শিকার হয়েছে, সেটি কয়েকটি সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে। এসব গ্যাংয়ের মধ্যে রয়েছে শেন মেশাঁ, ভিটেলহোম ইনোসাঁর নেতৃত্বাধীন ক্রাজে বারিয়ে এবং লানমো সাঁজুর নেতৃত্বাধীন ৪০০ মাওজো।জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়েই গ্যাংগুলোর দুই নেতা ভিটেলহোম ইনোসাঁ ও লানমো সাঁজুর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

হাইতিতে অপহৃত ৪ সেনাকে উদ্ধারে সামরিক অভিযান এল সালভাদরের